পেকুয়া প্রতিনিধি:

সরকারি অফিসে বসেই ক্ষমতার অপব্যবহার, ফাইল জালিয়াতি, ভুয়া বদলি নাটক আর পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী মোঃ হালিম উল্লাহর বিরুদ্ধে। তার লাগামহীন জালিয়াতি ও উৎকোচ দাবির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সম্প্রতি তার এই অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার হাত থেকে রক্ষা পেতে কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর ৯ দফা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা। এতেও সমাধান না হলে কর্মবিরতি ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এক মাঠকর্মী বিধিসম্মতভাবে বদলির আবেদন করলে জেলা অফিসে পাঠানোর সময় তার অলক্ষ্যে কাবিননামার ফটোকপিতে ফ্লুইড/রিমুভার ঘষে ঠিকানা বদলে দেন হালিম উল্লাহ। পরবর্তীতে জেলা অফিসে গিয়ে তিনি উক্ত আবেদনকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে জেলা অফিস থেকে মূল ফাইল এনে দেখা যায়, কৌশলে কাবিননামার তথ্য পরিবর্তন করে বদলি আটকে দেওয়ার হীন চক্রান্ত করা হয়েছিল।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ক্ষেত্রপর্যায়ের এফপিআই ও এফডব্লিউএ কর্মীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভ্রমণ ভাতা (টিএ বিল) থেকে ৫০% কমিশন দাবি করেন এই কর্মকর্তা। কর্মচারীরা এই অবৈধ দাবি মানতে রাজি না হওয়ায় পুরো বরাদ্দকৃত টাকাই সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়ে দেন তিনি। এছাড়া এফপিআইদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের টিএ বিল থেকেও ৩০% হারে কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি কিংবা কৈফিয়ত তলব ছাড়াই এক পরিবার কল্যাণ সহকারীকে দীর্ঘ ৫ মাস (ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫) বেতন-ভাতা বঞ্চিত রাখা হয়। অন্যদিকে, এক এফপিআই কর্মকর্তার জিপিএফ ফান্ড থেকে দ্বিতীয় অগ্রিম উত্তোলনের আবেদনে ইচ্ছেকৃতভাবে উপজেলা কর্মকর্তার স্বাক্ষর না নিয়েই জেলা অফিসে পাঠায় হালিম উল্লাহ। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও স্বাক্ষরবিহীন ফরম পাঠিয়ে কর্মচারীদের হয়রানির চরম সীমায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, টিএ বিল কিংবা উচ্চতর গ্রেডে উন্নীতকরণের মতো নিয়মিত দাপ্তরিক ফাইলেও ‘বিশেষ টাকা’ না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। এমনকি ছুটির আবেদনের রিসিভ কপি দিতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি। অফিসে আসা মাত্রই কর্মচারীদের সাথে অশালীন ভাষা ও হুমকি-ধামকি দেওয়া তার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মবিনের হক, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মুরশিদা খানম, শাহেনা আক্তার, হেলেন আক্তার, রিনু আক্তারসহ ১১ জন ভুক্তভোগী কর্মচারী একযোগে এ লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন।

অভিযোগকারী কর্মচারীদের দাবি, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহোদয়কে বারবার মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও অদৃশ্য কারণে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে অফিসে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে যদি অভিযুক্ত মোঃ হালিম উল্লাহকে পেকুয়া থেকে অপসারণ না করা হয়, তবে সাধারণ কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালনে বাধ্য হবেন।

অভিযোগের সার্বিক বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী মোঃ হালিম উল্লাহর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, এসব অভিযোগ দিয়ে আমার কিছুই হবেনা, যেথানে জবাব দেয়া লাগে সেখানে জবাব দিবো।

পেকুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্রকে মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ না করায় হোয়াটসঅ্যাপ ক্ষুদে বার্তা দিলেও সাড়া দেননি।